নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : বুধবার ১১ই মার্চ ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বে কিডনি রোগে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে—এমনই উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেছেন চিকিৎসকরা। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে যেখানে কিডনি রোগে আক্রান্তের হার ১৪ শতাংশের নিচে, সেখানে বাংলাদেশে এ হার ১৪ থেকে ২২ শতাংশের মধ্যে। চিকিৎসা ব্যয় অত্যন্ত বেশি হওয়ায় প্রায় ৭০ শতাংশ রোগী মাঝপথেই চিকিৎসা বন্ধ করে দেন। ফলে প্রতি বছর দেশে প্রায় ২০ হাজার মানুষ কিডনি রোগে মারা যান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে প্রায় ৫০ শতাংশ রোগীকে সুস্থ রাখা সম্ভব।
রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়–এর কিডনি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন কিশোরগঞ্জের কৃষক লোকমান মিয়া। ৩৫ বছর বয়সী এই কৃষক প্রায় ১০ বছর আগে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন। তিনি জানান, নিয়মিত ওষুধ না খাওয়ার কারণে ধীরে ধীরে তার কিডনিতে জটিলতা দেখা দেয়। এখন তিনি হাসপাতালে দিন কাটাচ্ছেন, তবে অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানো তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
একই ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন ৪০ বছর বয়সী মহিউদ্দিন। কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাকে সারা জীবন ডায়ালাইসিস নিতে হবে। কিন্তু মাত্র ছয় মাসের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতেই তার পরিবারকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মহিউদ্দিনের বোন জানান, আত্মীয়–স্বজনদের সহায়তাও খুব বেশি পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, বেশিরভাগ রোগীই দেরিতে চিকিৎসা শুরু করেন। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে কিডনি হঠাৎ বিকল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়–এর রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. আবু হানিফা শুভ বলেন, লোকমানের কিডনি আগে থেকেই দুর্বল ছিল। পরে হঠাৎ ডায়রিয়া হওয়ার কারণে তার শরীরে ‘ক্রনিক’ সমস্যার সঙ্গে ‘একিউট’ আক্রমণ যুক্ত হয়। এই দ্বৈত আঘাতে তার কিডনির কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৪০ শতাংশ কিডনি রোগীর ডায়ালাইসিস প্রয়োজন হয়। কিন্তু সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ডায়ালাইসিস করাতে হয় বলে চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেশি। ফলে অনেক রোগী মাঝপথেই চিকিৎসা বন্ধ করতে বাধ্য হন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়–এর নেফ্রোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহ মো. জাকির হোসেন বলেন, পাঁচ থেকে দশ বছর নিয়ম মেনে চিকিৎসা নেওয়ার পর অনেক রোগীর শেষ সময়ে ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়, যা অধিকাংশ পরিবারের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল–এর নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান ডা. এহতেশামুল হক বলেন, কোনো পরিবারের একজন সদস্য যদি কিডনি রোগে আক্রান্ত হন এবং ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন হয়, তাহলে সেই পরিবারের জন্য অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনি নষ্ট হওয়ার পরই সাধারণত ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ রোগীর শরীরে উপসর্গ দেখা দেয়। তাই ৪০ বছর বয়স পার হওয়ার পর থেকেই নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এতে আগেভাগে রোগ শনাক্ত করা গেলে জটিলতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।