;

ইরানের হামলায় ইরাকের কাছে জ্বলছে ২ তেলের ট্যাংকার

ইরানের হামলায় ইরাকের কাছে জ্বলছে ২ তেলের ট্যাংকার

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তেল অবকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থার ওপর হামলা জোরদার করেছে ইরান। ইরাকের জলসীমায় দুটি তেলের ট্যাংকারে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই ‘এ যুদ্ধে জিতে গেছে’—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর এমন দাবিকে উপেক্ষা করে ইরান বিশ্বকে সতর্ক করেছে যে তেলের ব্যারেলপ্রতি দাম ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

প্রায় দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু হয়। এরপর থেকে চলমান এই যুদ্ধে প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও পরিবহন ব্যবস্থা বিশৃঙ্খলার মুখে পড়েছে। সংঘাতটি পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ১৯৭০-এর দশকের পর সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের কৌশলগত মজুত থেকে রেকর্ড ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, ইরাকের জলসীমায় অবস্থানরত দুটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে হামলা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিস্ফোরক ভর্তি নৌকাগুলো ব্যবহার করে ইরান হামলাটি চালিয়েছে। এই ঘটনায় এক ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন।

এর আগে পারস্য উপসাগরে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু আঘাত হানে বলে বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছেন সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা, ঝুঁকি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ও বন্দর কর্মকর্তারা।

আইজি’র বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, “তেলের ঊর্ধ্বমুখী দামের লাগাম টানতে আইইএ যে ব্যাপক কৌশলগত রিজার্ভ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে, ইরানের সাম্প্রতিক হামলাগুলো তার সরাসরি ও জোরালো প্রতিক্রিয়া।”

ইরান বাহরাইনের মুহাররাক স্থাপনার তেল ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ জানিয়েছে, চলমান এ যুদ্ধে এক হাজার একশোর বেশি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে।

এদিকে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্টাকিতে এক সমাবেশে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জয়ী হয়েছে, তবে তারা “প্রতি দুই বছর পরপর আবার ফিরে যেতে চায় না।”

তিনি বলেন, “আমরা আগেভাগেই সরে আসতে চাই না। আমরা কাজটা শেষ করতে চাই।”

ট্রাম্প আরও বলেন, আইইএ-র সিদ্ধান্ত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সাহায্য করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের প্রতি এই হুমকি দূর করা সম্ভব হবে।

তবে ইরান স্পষ্ট করেছে যে তারা অর্থনৈতিক চাপ দীর্ঘায়িত করতে চায়। ইরানের সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “তেলের ব্যারেল ২০০ ডলার হওয়ার জন্য প্রস্তুত হও। কারণ তেলের মূল্য নির্ভর করে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর—যা তোমরাই অস্থিতিশীল করেছ।”